Jolporir preme ◇ Season 01 ◇ Episode _05

♡ জলপরী প্রেমে ♡


চোখ খুললাম।দেখি আমি শুয়ে আছি একটা বিছানায়।।ভাবলাম হয়তো স্বপ্ন দেখেছিলাম।।।।কিন্তু না এটা তো স্বপ্ন না।।।কারন আমি আমার রুমে নাই।পুরো অচেনা একটা রুম।।।কি করে আসলাম এখানে আমি।।।শুধু এটুকুই মনে আছে আমাকে নিয়ে উড়াল দিলো পরীটা আর পানি এসে ভিজিয়ে দিলে আমি পরে যায়।এটুকুই তো মনে আছে।কিন্তু এইটা কোন জায়গা।পুরো অদ্ভুদ লাগছে।

রুম থেকে বাইরে যাবো।হঠাৎই রাজ দুজন মানুষ আমার সামনে আসলো।।।এদেরকে মানুষ বললে ভুল হবে।।।কারন এরা অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক মাছ।মানে জল মানব এরা দুজন।

--আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে।।।রানী সাহেবা আপনাকে দেখেছেন।(জলমানব)

--(আমি কিছুই বল্লাম না কারন আমার ভয় লাগছে।।।এদের দুজনকে দেখেই বোঝা আমি এখন পানির মধ্যে আছি।

কিন্তু রুমটাই তো কোনো পানিই দেখতে পেলাম না।।।।আর ঔদুজন বাইরে ভাসছিলো।মানে রুমের বাইরে পানি আর পানি।।।।রুম থেকে বের হলাম।।।একটা জল মানব আমার হাত ধরলো।হ্যা যেটা ভেবেছিলাম সেটাই।শুধু পানি আর পানি।।।কিন্তু দরজা খোলা তাও রুমে পানি যাচ্ছে না কেনো।।।বড়ই অদ্ভুদ ব্যাপার।।।।আমাকে নিয়ে একটা জায়গায় চলে আসলো।।অদ্ভুদ ব্যাপার আমি ও মাছের মতো পানিতে শ্বাস নিতে পারছি।আবার এই জল মানবদের মতো পানিতেই কথা বলতে পারছি।।।আমার তো অদ্ভুদ লাগছে সব কিছুই।

কিন্তু পানিতে থাকলে সব কিছুই নিজের আপন লাগে।।আমাকে মনে হয় এখানের রাজ সিংহাসনে নিয়ে আসা হলো।।।।এখানে সবই অদ্ভুদ।।।সবারই পা না থেকে মাছের লেজ আছে।পুরো কাল্পনিক জল মানব আর জলপরী এরা।।।আমি কি সত্যি সত্যি দেখছি এগুলো নাকি মারা গিয়েছি আমি বুঝতেই পারছি না

--পানির দেশে তোমাকে স্বাগতম (সিংহাসনে বসা এক জলপরী বলে উঠলো। মনে হচ্ছে এটাই তাদের রানী)

--আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন কেনো?আমি আমার বাসায় ফিরে যেতে চাই।(আমি)

--তোমাকে এখানে আনা হয়েছে কারন তোমার বাবা মায়ের সাথে আমাদের যে চুক্তি হয়েছিলো সেটার সময় চলে আসছে।(জল রানী)

--কিসের চুক্তি????(আমি)

--তারা তোমার জীবনের বিনিময়ে দান করে দিয়েছে আমাদের কাছে।(রানী)

--মানে কিছুই বুঝতেছি না।।।।একটু বুঝিয়ে বলুন।(আমি)

--আমাদের রাজার ভুলের জন্য তোমার আর তোমার বোনের মৃত্যু হয়েছিলো যখন তোমরা ২ বছরের ছিলে।তার ভুল ঠিক করার জন্য তিনি মানুষ রূপী এক দরবেশ হয়ে তোমার বাবা মায়ের কাছে যান।এবং নিজের জীবনের বিনিময়ে তোমাদের দুজনকে জীবিত করেন।।।যেখানে একটা শর্ত ছিলো?(রানী)

--কি ছিলো সেই শর্ত জানতে পারি?(আমি)

--তিনি বলেছিলেন তোমাদের ছেলে মেয়ের যখন ১৮ বছর হবে তখন যেকোনো একজন হারিয়ে যাবে।।আমি দুজনকেই ১৮ বছর পর্যন্ত বাচিয়ে রাখতে পারবো।।।কিন্তু তারপরে আপনাদের ইচ্ছা আপনারা ছেলেকে চান না মেয়েকে।(রানী)

--আমার বাবা মা কাকে চেয়েছিলেন?(আমি)

--অবশ্য দুইজনকেই চেয়েছিলেন।।।।কিন্তু শর্ত ছিলো একজনকে ত্যাগ করতে হবে।তারা তোমার বোনকে চেয়েছিলো।আর তোমাকে ত্যাগ করেছিলো।।।আর আমাদের রাজা তার সকল শক্তি তোমার মধ্যে দিয়ে তার জীবনের বিনিময়ে তোমাদের দুজনকে জীবিত করেন।(রানী)

--(আমার চোখ দিয়ে পানি পরছে।।।।তারা আমাকে ছেড়ে দিতে পারলো এভাবে।।।আমার তো কিছুই বিশ্বাস হচ্ছে না)

--তো রেডি হয়ে যাও।(রানী)

--আমাকে কি মেরে ফেলবেন?(আমি)

--হাহা হাহা কি বলে ছেলেটা।।।।মানব সন্তান তোমার তো idea ই নাই তুমি কি?(রানী)

--তাহলে আমাকে এখানে কেনো রাখবেন আমি বাসায় যেতে চাই।(আমি)

--বাসায় যাওয়ার কথা ভুলে যাও।কারন এইটাই তোমার বাসা এখন থেকে।।।আর ১৫ দিন পর তুমি এই সিংহাসনে বসবা।।।।এই পুরো পানির দুনিয়ার রাজা হবে তুমি।(রানী)

--আমি তো সাধারন একজন মানুষ।(আমি)

--তুমি সাধারন কোনো মানুষ নও।।।তোমার মধ্যে আমাদের রাজার সব শক্তি পুন্জভিত রয়েছে।।।তোমার অভিষেক না করলে বুঝতেই পারবা না তুমি কি?(রানী)

--কিন্তু আমি তো এখানে থাকতে চাই না।।।(আমি)

--সেটাও জানি।।।কিন্তু তোমাকে থাকতে হবে এখানে।।।কারন তুমি যদি উপরে যাও তাহলে ঔ খারাপ পরীটা তোমাকে আবার নিয়ে যাবে।।(রানী)

--ও যদি আমার পরিবারে কোনো ক্ষতি করে।(আমি)

--সেইটা কখনো পারবে না।।।কোনো জল শক্তি বাদে কোনো শক্তি তোমার বোনের উপর কাজ করবে না।।আর ১৫ দিন পর তোমার অভিষেক,,,, সেনাপত। (রানী)

--জ্বী রানী সাহেবা।(একজন বডি বিল্ডার জল মানব এসে বললো)

--এখনি আমাদের রাজা সাহেবকে নিয়ে ট্রেনিং দাও।(রানী)

--যো আজ্ঞা। (সেনাপতি)

সেনাপতি আমার হাত ধরে নিয়ে গেলো। আমি তো সাতার কাটতে পারি না। এদের তো লেজ আছে তাই এরা সহজেই সাতার কাটতে পারে। কিন্তু খুব ভয় লাগছে যে এরা তো আমাকে যেতে দিবে না। ১৫ দিন পর আমি রাজা হয়ে যাবো। তখন তো আমার কথায় সবাই শুনবে। থাক ১৫ দিন আমি এই জল জগৎটা ভালো করে ঘুরে দেখি। রাজা যদি হয়ে যায় তারপর এখান থেকে চলে যাবো। আমার আদেশ তো আর কেউ অমান্য করতে পারবে না।

সেনাপতি আমাকে পানির মধ্যে মারামারি শিখাচ্ছে। আমি তো একা নরতেই পারছি না আর মারামারি। আমার এই কঠিন অবস্থা দেখে পাশে কিছু মেয়ের হাসির আওয়াজ পেলাম। আমি সোজা ঔদিকে তাকালাম। আমার চোখ থমকে গেলো। আমার হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে। পানির মধ্যেও সেই পরিচিত গন্ধটা আমি পাচ্ছি। মানে এই সেই জলপরী তাহলে যাকে আমি এতদিন একে গেছি। এই সেই জলপরী যাকে আমি আশে পাশে অনুভব করেছি। আমি এগিয়ে গেলাম ওর দিকে। দেখি জলপরীটা আমাকে দেখে লজ্জা পেয়ে মাথা নামিয়ে নিলো। আমি সব ভয় বাদ দিয়ে মাথাটা উচু করলাম। সে কি চেহারা। মনোমুগ্ধকর চেহারা। এই রূপের মাঝে সবাই পাগল হয়ে যাবে।।।আমি তো পাগল হয়েই গেছি।

--উহু, এভাবেই তাকিয়ে থাকবেন। (জলপরী)

--এতো সুন্দর হয়েছেন কেনো?(আমি)

--পরেও দেখতে পারবেন।।।এভাবে দেখার কিছু নাই।(জলপরী)

--সারা জীবন আপনাকে ভেবেই ছবি একে গিয়েছি।।।কোনোদিনও আপনার চেহারা কল্পনা করতে পারি নাই।আজ দেখতে পেলাম।একটু মন খুলে দেখতে দেন।।(আমি)

--হুমমম দেখতে তো পারবেন।দেখার কি শেষ আছে।।।তবে চলে একটু ঘুরে আসি আপনাকে নিয়ে।(জলপরী)

--হুমমম চলেন।(আমি)

--কিন্তু রাজকুমারী আপনার মাতার আদেশ ওনাকে শিখাতে হবে।(সেনাপতি)

--সেনাপতি আমি এখানের হবু রানী।আর আমার রাজাকে নিয়ে আমি যাচ্ছি ঘুরতে এটা আমার মাতাকে বলে দিয়েন।আশা করি কিছুই বলবে না তিনি।(জলপরী)

--হুমমম রাজকুমারী।(সেনাপতি)

জলপরীটা তাহলে রাজকুমারী। wow..ওর সাথে থাকা সব গুলো জলপরীকে রেখে ও আমার হাত ধরে সাতার কাটতে লাগলো। আমাকে নিয়ে আসলো পানির উপরে। খুবই খুশি হলাম। ভাবলাম এবার বুঝি বাসায় যেতে পারবো। এটাকে বুদ্ধু বানিয়ে চলে যাবো বাসায়। নাহলে নিয়েই যাবো কোলে করে। কিন্তু সব আশা তো পূরন হওয়ার না। একটা বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে আছি বলে মনে হচ্ছে। পাশেই ছোট একটা দ্বীপ। ছোট একটা বাসা করার মতো দ্বীপটা। কিন্তু অনেক গাছে ভরপুর। এমন জায়গায় এমন একটা দ্বীপ ভাবতেও পারি নাই। একি, গাছে তো দেখি একটা ট্রি হাউজও আছে। মানে ছোট একটা বাসা এইটা, বিশ্বাসই হচ্ছে না।

--কেমন হয়েছে জায়গাটা।(জলপরী)

--অসাধারন।।।কিন্তু এমন জায়গায় এমন একটা দ্বীপ আশা করা যায় না।।।(আমি)

--এটা আমি আপনার জন্যই বানিয়েছি।।।।এখানে আমি আর আপনি দুজনে থাকবো।(জলপরী)

--কি এখানে।।।।।আমার......(না ওকে বাসায় যাওয়ার কথা এখনই বলা যাবে না।।।নাহলে হয়তো আমার বাসায় যাওয়া হবে না।)

--এটা কি করে বানিয়েছেন আপনার তো পা নেই।।।লেজ আছে কষ্ট হয়েছে না বানাতে।(আমি)

--উহু।।।।(দেখি ও উপরে উঠতে লাগলো।।।ওর লেজ আসতে আসতে অদৃশ্য হতে লাগলো।।।একদম দুটো পা হয়ে গেছে।আর লেজের লাল রংটা লাল সুন্দর একটা জামা হয়ে গেছে।।।এখন পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর মেয়ে লাগছে ওকে)

--এটা কি করে সম্ভব।(আমি)

--শুধু রাজ বংশীয় জল মানব আর জলপরীরাই এমন করতে পারে।।।যেমন আমি পারি।।।আমরা দুই জায়গায়ই থাকতে পারি যেমন আপনারা মাটিতে থাকেন।আমিও মাটিতে থাকতে পারবো।(জলপরীটা মন খারাপ করে)

--কি হলো আপনার মন খারাপ কেনো???(আমি)

--এমনি।আচ্ছা চলুন আপনাকে কিছু জিনিস দেখাই।(জলপরী)

--কি দেখাবেন।(আমি)

--আরে চলুন তো আগে। (আমার হাত ধরে ট্রি হাউজে নিয়ে গেলো জলপরীটা।ভিতরে ঢুকে তো পুরো অবাক)

--এ তো আমার আকা ছবি। সব গুলো এখানে?(আমি)

--হ্যা আপনি প্রতিবার যখনই ছবি আকতেন আমি আপনার পাশেই অদৃশ্য হয়ে বসে থাকতাম।।আপনি হয়তো বুঝতেন আশে পাশে কাউকে খুজতেন খুব মজা লাগতো আমার।।।আপনি যখন একা একা কথা বলতেন খুব ইচ্ছা করতো আপনার সাথে কথা বলতে।।।কিন্তু মাতার কড়া নির্দেশ ছিলো বিদায় বলত পারি নাই।আপনি যখন আমার ছবি একে ফেলে দিতেন একটা জলে তখন আমি নিয়ে এখানে চলে আসতাম। আর একটা একটা করে জমাতাম। (জলপরী)

--তাহলে পানির মাঝে আমাকে দম দেওয়া আর হাতে এই আংটি পরানো সবই আপনার কাজ।(আমি)

--হুমমম।(এবার লজ্জায় লাল হয়ে গেলো)

--ভালোবাসেন আমাকে।(আমি)

--নিজের জীবনের থেকেও বেশী।(জলপরী)

--ওওও(আমি)

--হুমমম।চলুন সমুদ্রের পাশে গিয়ে বসি।(জলপরী)

--ভালোবাসলে আপনি করে কেনো বলতেছো।তুমি করে বলো।(আমি)

--হুমমম চলো।।।(হেসে দিয়ে বললো)

দুজনে বসে পরলাম।এখানে ছোট একটা মাচাল বানানো আছে।এখানেই বসলাম।আমার বুকে মাথা দিয়ে আমাকে জরিয়ে ধরলো জলপরী।

--আচ্ছা আমি কি তোমাকে রাজকুমারী বলেই ডাকবো।।।নাকি অন্য নামে?(আমি)

--আমার নাম টা একটু বড় সড়।তুমি আমাকে তোমার মন মতো একটা নাম দিতে পারো। (জলপরী)

--হুমম নতুন নাম।।।ঠিক আছে জারা।।।
(চলবে) ✪✪✪

Post a Comment

Previous Post Next Post